ডেস্ক রিপোর্ট
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর হাজারীবাগ পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে অতিরিক্ত গরু আসায় নির্ধারিত সীমানার বাইরেও পশু রাখতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। এতে আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট ও জনভোগান্তি।
সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সরেজমিন হাজারীবাগ পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
হাট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক গরু হাটে আসছে। কিন্তু নির্ধারিত জায়গা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত পশু রাখতে হাটের বাইরে সড়ক ও খোলা স্থান ব্যবহার করা হচ্ছে।
হাটের ইজারাদার নাফিজ কবির দাবি করেন, সিটি কর্পোরেশন আমাদের যে জায়গা দিয়েছে তাতে এই জায়গা গরু রাখা সম্ভব নয়। চাহিদার তুলনায় জায়গা কম হওয়ায় সাময়িকভাবে অতিরিক্ত পশু নির্ধারিত এলাকার বাইরে রাখতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

কেমন বেচাকেনা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবেমাত্র একদিন হলো গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ লাইন সমস্যা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বিক্রি শুরু হয়নি। আগামী আরও দুদিন রয়েছে আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে বিক্রি আরও বাড়বে। খামারিদের জন্য এখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তাদের পানির ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুর নির্দিষ্ট হাটের জায়গা করা হয়েছে সিকদার মেডিকেলের পাশের একটি বড় মাঠে। কিন্তু তারা সেখানে হাট বসানোর পরেও বেড়িবাঁধের সড়কের পুরো জায়গাজুড়ে এবং হাজারীবাগ থানার পাশে বেশ কয়েকটি বড় ট্যানারির গলিতে পশুর হাট বসানো হয়েছে। এতে করে এলাকায় যানজট এবং চলাচলে স্থানীয়দের সমস্যা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী সেলিম। কেমন বেচাকেনা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বেচাবিক্রি শুরু হয়নি। ট্রাকে করে আনার সময় গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওদেরকে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে, রাত থেকে বিক্রি শুরু করতে পারবো।

পাবনা থেকে ১৯টি গরু নিয়ে এসেছেন খামারি আমির আলী খান। তিনি জানান, গরু নিয়ে ১৭ মে ঢাকায় আসি। তবে গতকাল থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। ১৯টি গরুর মধ্যে ৯টি গরু বিক্রি করেছেন এখনো দশটি গরু রয়েছে।
ঝিগাতলা থেকে বাশার কোরবানির গরু কিনতে এসেছেন হাজারীবাগ হাটে। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকার মতো আমার বাজেট। সেই বাজেট নিয়ে এসেছি হাটে। কিন্তু অনেক ঘোরাঘুরি করলাম। এই বাজেটের মধ্যে এখনো গরু পছন্দ করতে পারিনি।
হাজারীবাগ হাটে লালবাগ থেকে গরু কিনতে এসেছেন জহিরুল ইসলাম সানি। তিনি জানান, হাটে গরুর অভাব নেই। কিন্তু আমার বাজেটের মধ্যে এখন পর্যন্ত সেই গরুটি কিনতে পারিনি। বৃষ্টি হওয়ায় বাসা থেকে দেরি করে বের হয়েছি। চেষ্টা করছি বাজেটের মধ্যে গরুটি কেনার।
হাজারীবাগ পশুর হাটের তত্ত্বাবধানে থাকা এলহাম নামের এক ব্যক্তি জানান, আবহাওয়ার কারণে গরু বিক্রি তেমন একটা শুরু হয়নি। আশানুরূপভাবে এখনো বিক্রি করতে পারিনি। ক্রেতারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাটে আসতে পারেনি। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী দুই দিন বিক্রি বাড়বে।
