ডেস্ক রিপোর্ট
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা জনগণ যখন প্রায় ভুলেই যেতে বসেছিল, ঠিক তখনই চলতি বছর এ রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় এক কঠিন সংকট পার করছে বাংলাদেশ। এর নেপথ্যে ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং এর ফলে শিশুদের শরীরে ‘হার্ড ইমিউনিটি’র ঘাটতি তৈরি হওয়াকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত রুটিন টিকার পাশাপাশি প্রতি চার বছর পরপর নির্দিষ্ট একটি বয়সের শিশুদের একযোগে টিকা দেওয়া হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এই ক্যাম্পেইনটি হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও টিকার ঘাটতিসহ নানা কারণে তা পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এটি শুরুর কথা থাকলেও এমআর ক্যাম্পেইনের বদলে নভেম্বরে দেওয়া হয় টাইফয়েডের টিকা।
দীর্ঘ পাঁচ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় শিশুদের মধ্যে প্রতিরোধক্ষমতার বড় ঘাটতি দেখা দেয়। এর মাশুল হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাসটি দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
২০২০ সালের পর দেশে নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিশুদের শরীরে বড় ধরনের প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকারের সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও টিকা সংকটের কারণে ক্যাম্পেইন পিছিয়ে দেওয়ায় চলতি বছরে দেশে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলায় দ্রুত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও যদি দেশব্যাপী হাম ও রুবেলার ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা যেত, তবে এভাবে সংক্রমণ ও শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটত না।

মার্চের শেষ দিকে প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার ধারণ করলে সরকার দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে ৫ এপ্রিল থেকে। ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় এ কার্যক্রম। তবে, ক্যাম্পেইন শুরুর আগে সঠিক মাঠপর্যায়ের পরিকল্পনা (মাইক্রোপ্ল্যান) না করায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যা গত ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সময় জনসম্মুখে স্পষ্ট হয়।

