ডেস্ক রিপোর্ট
নরসিংদীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে শায়েস্তা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা চ্যানেল ২৪, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কর্মরত। সম্প্রতি নরসিংদীর আলোকবালী ইউনিয়নে পুলিশের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শনিবার (২৩ মে) রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ্দুল্লাহর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সাংবাদিক সঞ্জিত সাহাকে ফোন করা হয়। প্রায় সাত মিনিটের ওই কথোপকথনে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সঞ্জিত সাহার ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে তাকে বলা হয়, ‘আপনি বড় সাংবাদিক হয়ে গেছেন, আপনাকে শায়েস্তা করতে হবে। আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আপনি থামবেন না। খুব দ্রুতই আপনাকে শায়েস্তা করা হবে, টের পাবেন।’ এ সময় অশ্লীল ও আপত্তিকর মন্তব্যও করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জিডিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আসাদ্দুল্লাহর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও ফেক আইডি ব্যবহার করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করেন। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে শায়েস্তা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখনো কেউ কেউ গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস বলেন, কোনো সাংবাদিক যদি ভুল নিউজ করে থাকে তাহলে প্রেসক্লাবে আসবে, এসে কথা বলবে, আপনাদের এই সাংবাদিক সঠিক রিপোর্ট করে নাই। আমরা তা দেখব, ভুল হয়ে থাকলে আমরা সংশোধন করব। কিন্তু কেউ হুমকি দেবে, তা আমরা মেনে নেব না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসাদ্দুল্লাহর বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ মে নরসিংদীর আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর এলাকায় মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
