ডেস্ক রিপোর্ট
ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র আট দিন। এর মধ্যেই নাড়ির টানে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। তবে, সরকারি ও বেসরকারি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হবে আগামী ২৫ মে থেকে। মূলত ওই দিন থেকেই সড়ক ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে। অন্যদিকে, কোরবানি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু পরিবহনকারী ট্রাকও ঢাকায় আসছে। ফলে সড়কের উভয় পথেই যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকবে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের সাতটি প্রধান মহাসড়কে যানজটপ্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাব্য ৯৪টি স্পট (স্থান) চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এসব এলাকায় ঈদের আগে ও পরে নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবং সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর), বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ও জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাশেঁর ‘জিগজ্যাগ’ বেষ্টনী তৈরি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগ।
সম্প্রতি সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রার প্রস্তুতি সভা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সভায় ঈদের আগে ও পরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে ২৯টি এবং রেলপথে ২৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ঈদুল আজহার সাত দিন আগে থেকে ঈদের তিন দিন পর পর্যন্ত টোল প্লাজা ও যানজটপ্রবণ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করবে। এছাড়া, যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিটি হাইওয়ে থানা ও ক্যাম্পে মোটরসাইকেলে জরুরি মোবাইল টিম প্রস্তুত থাকবে
মহাসড়কে যানজটের ৯৪ ঝুঁকিপূর্ণ স্পট
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষে গাজীপুর রিজিয়ন সারাদেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ৯৪টি স্পট চিহ্নিত করেছে। মহাসড়কভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো হলো—
• ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (২৫টি স্পট): মেঘনা টোলপ্লাজা, এশিয়ান রোড (মদনপুর হতে বস্তুল), ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড, আমিরাবাদ বাসস্ট্যান্ড, চান্দিনা বাজার, মাধাইয়া বাজার, নিমসার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট মোড়, পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, মিয়ারবাজার উভয় লেন, চৌদ্দগ্রাম বাজার ঢাকামুখী লেন, বেসিক মোড়, লালপোল, কসকা বাজার, সমিতি বাজার, বারইয়ারহাট, মিরসরাই, সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড, বড় দারোগার হাট ওজন স্কেল, ফুটলিং, ছোট কুমিরা, কেডিএস মোড়, ভাটিয়ারী পয়েন্ট এবং বারবকুন্ড বাজার।

• ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক (২৫টি স্পট): চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্ত, স্কয়ার কাটা, কালিয়াকৈর বাইপাস, সফিপুর, মৌচাক, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, করোটিয়া হাট বাইপাস, যমুনা সেতু টোলপ্লাজা এলাকা, বনানী মোড়, টিএমএসএস মেডিকেল হাসপাতালের সামনে, মহাস্থান, বগুড়া-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড মোড় ওয়াচ টাওয়ার-২, নয় মাইল বাজার, শেরপুর উপজেলা গেট, ধুনট মোড়, নাবিল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে ইউটার্ন, ফুড ভিলেজ হোটেল, পেন্টাগন হোটেল, পাবনা-বগুড়া-রংপুরগামী ইউটার্ন মোড়, হাটিকুমরুল ওভারব্রিজের আন্ডারপাস, বগুড়া-ঢাকাগামী বাসস্ট্যান্ড মোড় হাটিকুমরুল, হানিফ রেস্টুরেন্টের সামনে, চান্দাইকোনা বাজার এবং গোবিন্দগঞ্জ মায়ামনির মোড়।
• ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক (২১টি স্পট): কাঞ্চন ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে গাউসিয়াগামী লেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটির সামনে গাউসিয়াগামী লেন, রূপসী বাসস্ট্যান্ড, বরপা বাসস্ট্যান্ড, পাকিস্তানি (এসিএস) গার্মেন্টস, ছনপাড়া, ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড, ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড, গোলায়া বাজার, শেরপুর মোড়, মাধবপুর বাজার ও আশপাশ এলাকা, শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন অলিপুর ও আশপাশ এলাকা, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, বিশ্বরোড গোলচত্বর, ইসলামপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড, মাধবপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড, দুর্জয় মোড়, নিউ টাউন মোড়, বরাবো বাসস্ট্যান্ড, তারাবো গোলচত্বর এবং যাত্রামুড়া ব্রিজ।
হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের চিহ্নিত দেশের প্রধান সাতটি মহাসড়কের ৯৪টি যানজটপ্রবণ গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সড়ক মেরামত, সংস্কারকাজ, রাস্তার সংকীর্ণতা এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে যানজট সৃষ্টি হতে পারে। ঈদের আগে-পরে এই এলাকাগুলো নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে, বিশেষ করে যানবাহন বিকল হওয়া এবং দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হবে
• চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক (৮টি স্পট): শান্তিরহাট বাজার, গাছবাড়িয়া বাজার, গাছবাড়িয়া কলেজ গেট, কেরানীহাট চৌরাস্তা এলাকা, পদুয়া বাজার এলাকা, লোহাগড়া বাজার/আমিরাবাদ বাজার এলাকা, চকরিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এবং লিংক রোড।
• ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক (৭টি স্পট): হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, সাভার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর মোড়, বাইপাইল মোড়, ধলেশ্বর ব্রিজ (জাগীর), নয়াডিঙ্গি এবং বাপুলি বাসস্ট্যান্ড।
• ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (৭টি স্পট): ভবানীপুর বাজার, বাঘেরবাজার, এমসি বাজার, জৈনা বাজার, স্কয়ার মাস্টারবাড়ি, সিডস্টোর এবং ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড।
• ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক (১টি স্পট): মাদারীপুর সদর থানাধীন মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা।

টোল প্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন
টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঈদুল আজহার সাত দিন আগে থেকে ঈদ শেষের তিন দিন পর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য সার্বক্ষণিক মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে— কর্ণফুলী সেতু, মেঘনা সেতু, গোমতী সেতু, পায়রা সেতু, খান জাহান আলী (রূপসা) সেতু, ভৈরব সেতু, কাঞ্চন সেতু, আত্রাই টোল প্লাজা, নাটোর, লালন শাহ সেতু, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উভয় মুখে, হানিফ ফ্লাইওভার, বাইপাইল, নবীনগর, গাজীপুর চৌরাস্তা, মদনপুর মোড়, কাঁচপুর, মোগড়াপাড়া, পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, পঞ্চবটী মুক্তারপুর সেতু এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উভয় মুখে।যানজট নিরসনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত এক হাজার সদস্য চাওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাইওয়ে থানা ও ক্যাম্পে মোটরসাইকেলে জরুরি মোবাইল টিম থাকবে, যারা কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল, মাইকিং, নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছেহাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি (পূর্ব) মুনতাসিরুল ইসলাম
যানজটের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি (পূর্ব) মুনতাসিরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে সম্ভাব্য যানজটপূর্ণ ৯৪টি স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে সড়ক মেরামত ও সংস্কারকাজ, রাস্তার সংকীর্ণতা, প্রবেশমুখে চাপ এবং টোল প্লাজায় অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোনো যানবাহন বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা থাকে। তবে, আগাম পরিকল্পনা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সহনীয় রাখা সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত স্থানগুলোর তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে জানানো হয়েছে। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার পর, বিশেষ করে ২৫ তারিখের পর যেন কোনো সংস্থা সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি বা সংস্কারকাজ না করে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কারকাজের সরঞ্জাম বা নির্মাণসামগ্রী যেন সড়কে ফেলে রাখা না হয় এবং রাস্তা চলাচল উপযোগী রাখা হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
যানজট নিরসনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত এক হাজার সদস্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি হাইওয়ে থানা ও ক্যাম্পে মোটরসাইকেলে জরুরি মোবাইল টিম থাকবে, যারা কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল, মাইকিং, নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।’

স্টেশনে স্টেশনে টিকিট ও এনআইডি যাচাই
বরাবরের মতো এবারও কেউ যেন বিনা টিকেটে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে যেতে না পারে সেজন্য ঢাকা, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের প্রবেশমুখে বাঁশের ‘জিগজ্যাগ’ বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এসব জিগজ্যাগের মুখেই চেক করা হবে যাত্রী-সহযাত্রীদের টিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে সকল যাত্রীকে ভ্রমণকালে টিকেটসহ জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে অনুরোধ করেছে রেলওয়ে।
একই সঙ্গে সময় নিয়ে যাত্রীদের স্টেশনে আসতে বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবং সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান ঢাকা, বিমানবন্দর ও জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাঁশের ‘জিগজ্যাগ’ বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এই বেষ্টনীর মুখে যাত্রী এবং সহযাত্রীদের টিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হবে। বিনা টিকেটে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ রোধ করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সকল যাত্রীকে ভ্রমণকালে টিকেট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করেছে
রেলওয়ের সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২, তিস্তা ঈদ স্পেশাল-৩ ও ৪, শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫, ৬, ৭ ও ৮ এবং পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯ ও ১০ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে এসব ট্রেন চলাচল করবে। ঈদের আগে ও পরে নির্ধারিত কয়েক দিন এসব বিশেষ ট্রেন চলবে। শোলাকিয়া স্পেশাল ট্রেন দুটি শুধুমাত্র ঈদের দিন চলাচল করবে।
প্রতি বছরের মতো এবারও তিনটি ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। ক্যাটেল স্পেশাল-১ ও ৩ দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে এবং ক্যাটেল স্পেশাল-২ ইসলামপুর বাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। এসব ট্রেনে ব্রেকভ্যানসহ ২৬টি কোচ থাকবে এবং পশু পরিবহনের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।
ঈদের আগে ২৩ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক অফ-ডে (ছুটি) প্রত্যাহার করা হবে। ঈদের পর আবার আগের নিয়মে অফ-ডে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকার দিক থেকে ওই স্টেশনমুখী কিছু আন্তঃনগর ট্রেনে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া, ঢাকাগামী কয়েকটি ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতিও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ও বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় ডিএমপি ও র্যাবের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। স্টেশনে প্রবেশপথে জিগজ্যাগ বেষ্টনী তৈরি করে শুধু টিকিটধারী যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে। অরক্ষিত প্রবেশপথগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, সিলেট, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরববাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টঙ্গী স্টেশনে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আরএনবি সদস্য মোতায়েন করা হবে।
খিলগাঁও ও আশকোনা রেলগেটে ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, যাতে কেউ অবৈধভাবে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে। একই সঙ্গে ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্টেশনে টুল বা মই নিয়ে প্রবেশও নিষিদ্ধ থাকবে।যাত্রীরা যেন সুশৃঙ্খলভাবে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য নির্দিষ্ট যাত্রী কিউ ব্যবস্থাপনা (Passenger Queue Management) নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো বহিরাগত যাতে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছেবাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান
এছাড়া রেললাইন, স্লিপার ও জয়েন্ট নিয়মিত পরীক্ষা, ট্রলির মাধ্যমে পেট্রোলিং, রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা এবং যাত্রা বিলম্ব হলে মোবাইল মেসেজ ও স্টেশন ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা নিশ্চিতে কল সেন্টার ‘১৩১’ আরও সক্রিয় করা হবে এবং ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে টিকিট বিক্রি, বিশেষ ট্রেন পরিচালনা, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও কালোবাজারি প্রতিরোধে ভিজিল্যান্স টিম ও বিশেষ তদারকি টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ সেলও কাজ করবে।

বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘যাত্রীরা যেন সুশৃঙ্খলভাবে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য নির্দিষ্ট যাত্রী কিউ ব্যবস্থাপনা (Passenger Queue Management) নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো বহিরাগত যাতে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য তল্লাশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সার্বিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, পার্কিং এলাকায় যাতে যানজট না হয় এবং যাত্রীরা সহজে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ ও বের হতে পারেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, পুরো কার্যক্রম তদারকিতে আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
